১৮৯৭ সালের এই দিনেই ওড়িশার কটকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভারতমাতার এই বীর সন্তান। আজকের এই বিশেষ দিনে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে।
দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লা এবং সংসদ ভবনে নেতাজীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দিনটিকে ‘পরাক্রম দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে প্রতি বছরই এই দিনটিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন বিভাগেও দিনটি বীরত্বের সাথে পালন করা হচ্ছে।
নেতাজীর জন্মরাজ্য পশ্চিমবঙ্গে আবেগ ও উদ্দীপনা তুঙ্গে। কলকাতার এলগিন রোডে নেতাজী ভবনে সকাল থেকেই মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঠিক দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে (নেতাজীর জন্মের সময়) শঙ্খধ্বনি ও সাইরেন বাজিয়ে তাঁর জন্মক্ষণ উদযাপন করা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন ক্লাব, স্কুল-কলেজ এবং পাড়ায় পাড়ায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি নেতাজীর মূর্তিতে মাল্যদান করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বার্তায় জানিয়েছেন, “নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর সাহস এবং ভারতের স্বাধীনতার প্রতি তাঁর ত্যাগ প্রতিটি ভারতবাসীকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি ছিলেন এক অনন্য নেতা।” অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।
বর্তমান প্রজন্মের কাছে নেতাজীর আদর্শ, তাঁর আত্মত্যাগ এবং ‘দিল্লি চলো’ বা ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব’—এই অমর মন্ত্রগুলো পৌঁছে দেওয়াই আজকের দিনটির মূল উদ্দেশ্য। দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে এদিন বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, দেশাত্মবোধক গান এবং নেতাজীর জীবনীর ওপর আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বিদেশের মাটিতেও, বিশেষ করে জাপান ও সিঙ্গাপুরে যেখানে আজাদ হিন্দ ফৌজের স্মৃতি জড়িয়ে আছে, সেখানেও প্রবাসী ভারতীয়রা এই দিনটি উদযাপন করছেন। সব মিলিয়ে আজ গোটা দেশ আবেগঘন হৃদয়ে স্মরণ করছে তাদের প্রিয় ‘নেতাজী’কে।
মতামত