যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মহীনতার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের (ONS) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুই সম্প্রদায়ের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বর্তমানে কর্মহীন, যা লন্ডনের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় সর্বোচ্চ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ চিত্র।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার শিশু বড়দিন উদযাপন করেছে এমন পরিবারে, যেখানে কোনো উপার্জনকারী নেই। গত বছরের তুলনায় কর্মহীন পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দেড় লাখ, যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি শুধু অর্থনৈতিক সংকটই নয়, সামাজিক নিরাপত্তা ও শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি তথ্য বিশ্লেষণে ব্রিটেনের কর্মসংস্থান চিত্রে একটি স্পষ্ট জাতিগত বৈষম্য ধরা পড়ছে। ভৌগোলিক দিক থেকে লন্ডন এখন বেকারত্ব সংকটের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কমিউনিটির অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন আয়ের খাতে কাজ করায় অর্থনৈতিক ধাক্কা তাদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে।
ব্রিটিশ সরকারের সদ্য ঘোষিত ‘ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স’ বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এসব সিদ্ধান্তের ফলে বহু প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ স্থগিত করেছে, আবার কোথাও কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায়।
আগামী বছর পরিস্থিতির বড় কোনো উন্নতির সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা, ২০২৬ সালে উচ্চ সুদের হার ও ভোক্তা আস্থার ঘাটতির কারণে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে মাত্র ১ শতাংশে। এর ফলে কর্মসংস্থানের বাজারে চাপ আরও বাড়বে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।
মতামত