এই ঘটনা কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং ভারতের সনাতন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর এক চরম আঘাত হিসেবে দেখছেন শান্তিনিকেতনের বুদ্ধিজীবী মহল। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত এই জনপদে নন্দলাল বসুর পরিবারের প্রতি এমন অবজ্ঞা মেনে নিতে পারছেন না কেউই। ইতিপূর্বেও মুর্শিদাবাদের নবাব পরিবারের প্রায় ৩০০ সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই হিন্দুস্তানি সংস্কৃতির অন্যতম আইকন নন্দলাল বসুর পরিবারের প্রতি এই আচরণ এক গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ হিসেবে অভিহিত করে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারগুলোকে সুকৌশলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা সাধারণ মানুষের মনেও তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। যে শিল্পী ভারতের রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও ঐতিহ্যের ছবি সংবিধানে এঁকেছিলেন, তাঁরই উত্তরসূরিদের নিজ দেশে ‘পরিচয়হীন’ করে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা হিন্দুস্তানি গৌরবের ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ক্রমবর্ধমান এই জনরোষের মুখে নির্বাচন কমিশন তাঁদের ভুল সংশোধন করে এই ঐতিহাসিক পরিবারের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করে কি না।
মতামত