প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের সময় ওরিয়ন নভোযানটি ঘণ্টায় প্রায় ২০ মাইল গতিতে পানির উপরিভাগে আঘাত করে। ১০ দিন ধরে মহাকাশের ওজনহীনতায় থাকা নভোচারীদের কাছে পানির সেই ধাক্কা ছিল অনেকটা শক্ত দেয়ালের মতো। অবতরণের পর পরই নৌবাহিনীর ডুবুরি দল এবং এমএইচ-৬০ সিহক হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। ওরিয়ন ক্যাপসুলের সুরক্ষায় থাকা পাঁচটি বিশেষ এয়ারব্যাগ স্বয়ংক্রিয়াভাবে সচল হয়ে নভোযানটিকে উত্তাল সমুদ্রে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
উদ্ধারকারী দলের মেডিকেল অফিসাররা জানিয়েছেন, মহাকাশচারী রেইড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। তাদের হেলিকপ্টারে করে দ্রুত জন পি মুর্থা নামক যুদ্ধজাহাজে নেওয়া হয়, যেখানে উন্নত চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে তাদের রক্তচাপ, পালস এবং স্নায়ুবিদ্যায় কোনো জটিলতা আছে কি না তা বিশদভাবে পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক অবস্থাকে সন্তোষজনক বলে ঘোষণা করেছেন।
এই অভাবনীয় সাফল্যে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। আর্টেমিস প্রোগ্রামের ম্যানেজার হাওয়ার্ড হু দিনটিকে একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এই মিশনটি মানুষের মহাকাশ অনুসন্ধানে নতুন যুগের দুয়ার খুলে দিল। নাসার অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অমিত কেশাত্রিয়া এই সাফল্যকে 'বিশ্বের জন্য বড় উপহার' বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও জানান, এই অর্জন কোনো ভাগ্যের জোরে নয়, বরং হাজার হাজার মানুষের নিরলস পরিশ্রমের ফসল। ওরিয়নের এই সফল ফেরা ভবিষ্যতে মানুষকে পুনরায় চাঁদের বুকে নামিয়ে আনার স্বপ্নকে আরও শক্তিশালী করল।
মতামত