ইতালির বেরগামো প্রদেশের কভো শহরে পবিত্র বৈশাখী উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ধর্মীয় জমায়েতে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওত পেতে থাকা এক আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন দুই ভারতীয় নাগরিক, যারা দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিচিত মুখ ছিলেন। শুক্রবার গভীর রাতে ‘গুরুদুয়ারা মাতা সাহেব কৌর জি’-এর সামনের চত্বরে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ ও বৈশাখী উৎসবের এই পুণ্যলগ্নে এমন রক্তক্ষয়ী হামলায় ইতালিতে বসবাসরত ভারতীয় ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন কভো শহরের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী রগিন্দর সিং এবং অগ্নাদেলো এলাকার বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী গুরমিত সিং। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লা সিসিলিয়া-র প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনার রাতে উপাসনালয়ের প্রাঙ্গণে বৈশাখী উৎসবের প্রাক্কালে স্থানীয় ভারতীয়রা সমবেত হয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে যখন পুণ্যার্থীরা বাইরে বেরিয়ে আসছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই অজ্ঞাতপরিচয় এক বন্দুকধারী তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। অন্তত দশ রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর ঘাতক দ্রুত একটি গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয় এবং অপর এক ব্যক্তি অলৌকিকভাবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান, যদিও একটি গুলি তার শরীরের পাশ দিয়ে ঘষে বেরিয়ে গেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এটি কোনো আকস্মিক উত্তেজনার ফল নয়, বরং সুপরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া গুলির খোসা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ধারণা করছে, হামলাকারীও ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং তাকে ইতিপূর্বে ওই ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের কোনো রেষারেষি নাকি অন্য কোনো উগ্রবাদী উদ্দেশ্য এর পেছনে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উল্লেখ্য যে, শনিবার ওই এলাকায় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে বৈশাখী মেলা ও ধর্মীয় উৎসব পালনের বিশাল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু উৎসবের আগের রাতে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড পুরো আনন্দ আয়োজনকে বিষাদে পরিণত করেছে। ইতালির স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং হামলাকারীকে গ্রেপ্তারে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। প্রবাসে ধর্মীয় উৎসবের প্রাক্কালে এমন নৃশংস ঘটনায় বাংলাদেশি হিন্দু ও ভারতীয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
মতামত