পশ্চিমবঙ্গ ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’-এ পরিণত হওয়ার হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে—এমনই তীব্র সতর্কবার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। হিন্দু ভোটারদের উদ্দেশে নির্দিষ্ট আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যকে বাঁচাতে হলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যারা পড়াশোনা বা কাজের কারণে বিদেশে কিংবা ভিনরাজ্যে রয়েছেন, তাঁদের নির্বাচন চলাকালীন বাংলায় ফিরে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তাঁর কথায়, “কিছু আর্থিক ক্ষতি হোক, তবুও বাংলাকে টিকিয়ে রাখুন। জাতিকে শক্তিশালী হতে দিন।” তিনি দাবি করেন, যদি এখনই প্রতিরোধ গড়ে না তোলা যায়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ ভয়াবহ বিপদের দিকে এগোবে।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বহুমুখী কৌশল নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই প্রবাসী বাঙালি ও অনাবাসী ভারতীয়দের ভোটে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শুভেন্দুর বক্তব্য, শক্তিশালী জাতি না হলে ইউক্রেনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে রাশিয়ার হামলার পর রাতারাতি লক্ষ লক্ষ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, “পেহেলগামে যা ঘটেছে, তা দেখার পরও যদি মানুষ জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমিক সরকার গঠনের জন্য ভোট দিতে না যান, তাহলে আগামী দিনে বাংলার অবস্থাও একই রকম হবে।” তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পশ্চিমবঙ্গ একসময় ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’-এ পরিণত হবে এবং চরমপন্থী শক্তির প্রভাব বাড়বে।
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, শুভেন্দু অধিকারীর এই আবেদন মূলত এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে যে, বিদেশে বসবাসকারী বহু বাঙালি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থক এবং তৃণমূল সরকারের কঠোর সমালোচক। দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, এই অনাবাসী ভারতীয়দের বড় অংশই কলকাতা ও অন্যান্য শহরাঞ্চলের বাসিন্দা। তাঁরা যদি ফিরে এসে ভোট দেন, তাহলে শহরকেন্দ্রিক বহু আসনে ফলাফল বদলে যেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেন, শুভেন্দুর আবেদনের একটি বাস্তব ভিত্তি রয়েছে। তাঁর মতে, বিদেশে বসবাসকারী বহু মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনব্যবস্থার সমালোচক। সম্প্রতি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের আয়োজিত দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন এনআরআইরা ডাকযোগে বা বিদেশ থেকেই ভোট দিতে পারবেন না।
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী জানান, বেলজিয়াম ও জার্মানির মতো দেশে প্রবাসী নাগরিকরা তাঁদের কর্মস্থল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। নির্বাচন কমিশন যদি ভারতে এমন ব্যবস্থা বিবেচনা করে, তাহলে তা বিদেশে থাকা ভারতীয়দের জন্য বড় সহায়তা হবে। তাঁর মতে, যদি অর্ধেক অনাবাসী ভারতীয়ও দূর থেকে ভোট দিতে পারেন, তাহলে তা বিজেপির জন্য বড় রাজনৈতিক সুবিধা হয়ে উঠতে পারে। তবে বাস্তবে কেবল ভোট দেওয়ার জন্য ভারতে ফিরে আসার খরচ বহন করা অনেকের পক্ষেই কঠিন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে বিভিন্ন সরস্বতী পূজা প্যান্ডেল পরিদর্শন করেন। সেই সফরের মধ্যেই তাঁর এই রাজনৈতিক মন্তব্য ও আবেদন নতুন করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
মতামত