পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্তঘেঁষা রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে দিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে কোনোভাবেই বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরকে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘এজেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে বিজেপির গোপন আঁতাত বা ‘ডিল’ হওয়ার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। তবে সেই ভিডিওর সত্যতা অস্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই রটনাকে বিরোধীদের চক্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। শাহের দাবি, হুমায়ুন কবীরের মতো নেতাদের ব্যবহার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদতে বাংলায় বাবরি মসজিদ তৈরির স্বপ্ন দেখছেন। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “দিদি কান খুলে শুনে নিন, বাংলায় বিজেপির সরকার আসছে। আর বিজেপির শাসনামলে এই পবিত্র ভূমিতে আমরা কোনোভাবেই বাবরি মসজিদ তৈরি হতে দেব না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে বিজেপির নাম জড়ানোর যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা সমূলে উৎপাটন করতেই শাহ আজ এমন আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, আম জনতা পার্টি মূলত তৃণমূলেরই একটি ছায়া সংগঠন, যারা হিন্দু ভোট বিভাজন করে দিদির ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, হুমায়ুন কবীরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তৃণমূল নেত্রী রাজ্যে মৌলবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইছেন।
নির্বাচনী প্রচারের এই মঞ্চ থেকে শাহ কেবল ধর্মীয় ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তৃণমূলের ‘গুন্ডারাজ’ ও ‘সিন্ডিকেটরাজ’ নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ৫ মে’র পর রাজ্যে পরিবর্তন নিশ্চিত এবং নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। বাংলা নববর্ষের আবহে তিনি রাজ্যবাসীকে তৃণমূলের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার আহ্বান জানান। শাহের এই অনমনীয় অবস্থান এবং বাবরি মসজিদ নিয়ে সোজাসাপ্টা বয়ান পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মতামত