পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকাশিত বিভিন্ন এক্সিট পোল ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
অধিকাংশ সমীক্ষাতেই ইঙ্গিত মিলছে যে, এবার প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার গঠনের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। অন্যদিকে ২০১১ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বিভিন্ন সংস্থার এক্সিট পোল অনুযায়ী বিজেপি ও টিএমসি-র মধ্যে মূল লড়াই হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিজেপিকে সামান্য এগিয়ে রাখা হয়েছে। কিছু সমীক্ষায় বিজেপি ১৪৮-এর বেশি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে বলে দেখানো হয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সীমা।
তবে কিছু জরিপে টিএমসি-ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, ফলে চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
People’s Insight-এর সমীক্ষায় টিএমসি ১৩৮ থেকে ১৫০টি আসন পেতে পারে, যেখানে বিজেপির সম্ভাব্য আসন ১৪৪ থেকে ১৫৪-এর মধ্যে। আবার PMARQ-এর হিসাবে বিজেপি ১৫০ থেকে ১৭৫ আসন পেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে People’s Pulse-এর এক্সিট পোল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি দেখিয়ে টিএমসি-কে ১৭৭ থেকে ১৮৭ আসন দিয়ে এগিয়ে রেখেছে।
Chanakya Strategies এবং MATRIZE-এর মতো সংস্থাগুলিও বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছে, যেখানে বিজেপির আসনসংখ্যা ১৫০-এর কাছাকাছি বা তার বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। Praja Polls তো আরও একধাপ এগিয়ে বিজেপিকে ১৭৮ থেকে ২০৮ আসন পর্যন্ত পেতে পারে বলে দাবি করেছে।
এই ভিন্নমুখী পূর্বাভাসের মধ্যে স্পষ্ট যে, রাজ্যে মূল লড়াই হয়েছে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর টিএমসি-র মধ্যে। গত নির্বাচনে টিএমসি ২১৫টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছিল, যেখানে বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন।
এবারের নির্বাচনে সেই সমীকরণ বদলাতে পারে কি না, তা জানতে এখন অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৪ মে ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক্সিট পোল অনেক সময় বাস্তব ফলাফলের সঙ্গে মিল না-ও থাকতে পারে, ফলে শেষ পর্যন্ত ভোট গণনাই নির্ধারণ করবে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী সরকার কার হাতে যাবে।
মতামত