ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ততই বাড়ছে। আগামী ৪ মে ২৯৪টি আসনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। কয়েকটি বুথফেরত জরিপে বিজেপির অনুকূলে ইঙ্গিত আসার পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে ভোট গণনা কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের আশঙ্কা, নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় বিজেপি স্ট্রং রুমে কারচুপি করে নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের প্রতিটি ভোট গণনা কেন্দ্রের পাশে থাকা স্ট্রং রুমগুলো চব্বিশ ঘণ্টা পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজ্যজুড়ে এবার মোট ৭৭টি কেন্দ্রে ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনায় সবচেয়ে বেশি ৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৬টি এবং কলকাতায় ৫টি গণনাকেন্দ্র রয়েছে। ৪ মে সোমবার সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু হবে। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট এবং পরবর্তীতে ইভিএমে থাকা ভোট গণনা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্ট্রং রুমগুলোতে যাতে বিজেপি বা নির্বাচন কমিশনের কেউ অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকে কর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। তৃণমূলের দাবি, স্ট্রং রুমে রাখা ইভিএমের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কারচুপির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বিভিন্ন গণনাকেন্দ্রে উত্তজনা লক্ষ্য করা গেছে। কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের সামনে ইভিএম কারচুপি রোধের দাবিতে অবস্থানে বসেন তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা এবং কুণাল ঘোষ। তাঁদের পাল্টা হিসেবে সেখানে উপস্থিত হন বিজেপির প্রার্থী তাপস রায় ও সন্তোষ পাঠক। পরিস্থিতির সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে হয়। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল কেন্দ্রের স্ট্রং রুমের সামনে টানা চার ঘণ্টা অবস্থান করেন। গভীর রাতে সেখান থেকে ফেরার সময় তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, ইভিএম বদলানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না এবং গণনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সব মিলিয়ে ভোট গণনাকে ঘিরে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।
মতামত