এন এস রাজা সুব্রামানি একজন ক্ষুরধার সামরিক মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, যাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলিতে রয়েছে ৩৫ বছরেরও বেশি সময়ের বীরত্বগাথা। ১৯৮৫ সালে গড়ওয়াল রাইফেলসে কমিশনপ্রাপ্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর এই যাত্রা কাশ্মীর থেকে শুরু করে পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এই সেনা কর্মকর্তা প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অসামান্য পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি পরম বিশিষ্ট সেবা পদকসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ভারতমাতার সীমান্তে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁর কঠোর অবস্থান হিন্দুত্ববাদী ভাবধারার সমর্থকদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও নীল জলসীমায় ভারতের আধিপত্য বজায় রাখতে নৌবাহিনীর কমান্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনের হাতে। বর্তমান নৌপ্রধান দীনেশ কুমার ত্রিপাঠির উত্তরসূরি হিসেবে আগামী ৩১ মে দায়িত্ব নেবেন তিনি। ১৯৮৭ সালে নৌবাহিনীতে যোগ দেওয়া স্বামীনাথন আইএনএস বিক্রমাদিত্যের মতো বিশালাকার রণতরী এবং আইএনএস মহীশূরের মতো শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ারের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
স্বামীনাথন কেবল একজন নৌ-অধিনায়ক নন, বরং ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা তদারকিতে তাঁর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। নৌ নিরাপত্তা দল গঠন এবং পশ্চিম নৌ কমান্ডের প্রধান হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা ভারতের সমুদ্রসীমাকে শত্রুর হাত থেকে মুক্ত রাখতে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এমন দুজন অভিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক যোদ্ধাকে সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করবে। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যু এবং ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে এই নতুন নেতৃত্ব কট্টর জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় উজ্জীবিত হয়ে কাজ করবেন, যা সমগ্র আর্যাবর্তের সনাতনী সমাজ ও ভারতের সাধারণ জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামী মে মাসের শেষ দিন থেকেই এই নতুন নেতৃত্ব ভারতের গৌরবোজ্জ্বল সামরিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে শুরু করবে।
মতামত