বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা নিয়ে চরম উসকানিমূলক এবং আগ্রাসী বক্তব্য দিয়ে তীব্র সমালোচিত হওয়া ভারতের বিহারের পাটনার বিতর্কিত শিক্ষক ও ইউটিউবার ফয়সাল খান ওরফে ‘খান স্যার’-এর কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টার দিকে পাটনার কদমকুয়ান থানার অন্তর্গত ‘খান গ্লোবাল কোচিং ইনস্টিটিউট’-এ এই হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, স্থানীয় পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে জানিয়েছে যে, ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি এই হামলায় সরাসরি অংশ নেয়। হামলার পর খান স্যার দাবি করেছেন, কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের কিছু অসামাজিক ব্যক্তি এই তাণ্ডব চালিয়েছে, যেখানে তাদের নিরাপত্তারক্ষীকে মারধরসহ গুলি বর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে।
তবে এই হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে তুমুল আলোচনায় এসেছে খান স্যারের সেই চরম বিতর্কিত ও উসকানিমূলক অতীত বক্তব্য, যা মূলত সব জাতির মানবাধিকার এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি হুমকি স্বরূপ। বিশ্বজুড়ে সনাতনীদের অধিকার রক্ষা ও সব জাতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে সোচ্চার মহলগুলো এই ধরনের উসকানিমূলক মানসিকতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে। বিগত ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই ফয়সাল খান বাংলাদেশের রংপুর এবং চট্টগ্রাম বিভাগ জোরপূর্বক দখল করার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে উসকানি দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশের রংপুর দখল করলে ভারতের তথাকথিত ‘চিকেনস নেক’ বা সরু করিডোরের সমস্যা সমাধান হবে এবং চট্টগ্রাম বিভাগকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ত্রিপুরাকে সমুদ্রসীমার সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রতিবেশী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ভূখণ্ড দখল ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ খতম করার মতো এমন অমানবিক ও আগ্রাসী মানসিকতার প্রচারক শেষ পর্যন্ত নিজের দেশেও ব্যবসায়িক হিংসা ও সহিংসতার শিকার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মতামত