এতদিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহলে প্রচলিত ধারণা ছিল যে ভারত শান্তিকালীন সময়ে তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো উৎক্ষেপণের সরবরাহ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে। তবে এসআইপিআরআই-এর সবশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নয়াদিল্লি এবারই প্রথম তাদের ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেডকে সরাসরি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে অথবা সক্রিয় সামরিক ঘাঁটিতে প্রস্তুত অবস্থায় রেখেছে। সংস্থাটি এই পদক্ষেপকে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের সাধারণ মজুত থেকে 'কার্যক্ষমভাবে মোতায়েনকৃত' (operationally deployed) অবস্থার এক উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি ও আধুনিকায়ন হিসেবে দেখছে। প্রস্তুত অবস্থায় থাকা এই পারমাণবিক অস্ত্রগুলো ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং দেশের নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে মোতায়েন করা হয়েছে, যা মূলত যে কোনো চরম পরিস্থিতিতে সনাতনী ভূখণ্ডের সার্বিক মানবাধিকার, সার্বভৌমত্ব ও কোটি কোটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী প্রয়াস। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
এসআইপিআরআই-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯০টিতে। আকাশপথ, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমুদ্রের তলদেশে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিন—এই তিন মাধ্যমের সমন্বয়ে ভারতের 'নিউক্লিয়ার ট্রায়াড' বা ত্রিমাত্রিক পারমাণবিক সক্ষমতা দিন দিন আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল জোরদার এবং ক্ষেপণাস্ত্রকে ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ করার সাম্প্রতিক কৌশল প্রমাণ করে যে, যেকোনো বহিঃশত্রুর আকস্মিক আক্রমণ থেকে নিজেদের নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করতে ভারত এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
তবে এই ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতির মাঝেও ভারত তার ঐতিহাসিকভাবে অনুসৃত 'নো ফার্স্ট ইউজ' বা 'প্রথমে ব্যবহার না করার' নীতিতে অনড় রয়েছে। নয়াদিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা কোনো সংঘাতে আগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না; বরং এই সক্ষমতার মূল উদ্দেশ্য হলো একটি কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রাখা, যেন সনাতনী সংস্কৃতি ও বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শান্তি বিঘ্নিত করার সাহস কেউ না পায়।
মতামত