অন্যদিকে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই হামলার দায় অস্বীকার করে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের শাস্তির দাবি তুলেছেন। এদিকে এই মর্মান্তিক মৃত্যু ও পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে রাজ্য জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই মৃত্যুর ঘটনাকে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রবীণ জননেত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা সনাতনী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনায় মমতার ওপর হামলা ঘিরে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে এক নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার পথে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। অজ্ঞাতপরিচয় কিছু দুষ্কৃতকারী তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ও বোতল ছোড়ে এবং কাদা ছিটিয়ে দেয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা ব্যানার্জী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গাড়ির কাচ বন্ধ না থাকলে পাথরের আঘাতে তাঁর প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটতে পারত। নিজের রাজনৈতিক জীবনে কখনো এমন নজিরবিহীন আক্রমণের মুখে পড়েননি দাবি করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ কোনো ভূমিকা না রেখে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে ছিল এবং তারা কেবল বিজেপি নেতাদের সুরক্ষাতেই ব্যস্ত।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মার স্বামী বীরজু কেওট পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়ার পর থেকেই হালিশহর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরিবারের দাবি, পুলিশি হেফাজতেই নির্যাতনের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই অমানবিক ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় মমতার এই সফর ছিল গুরুত্বপূর্ণ। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সফরকালে মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁদের দাবি, রাজ্যের বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই পুলিশ এসব পরিচালনা করছে এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার পদদলিত হচ্ছে।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত