থাইল্যান্ডের ওই নৃশংস ঘটনায় নাফাত ছিল সবচেয়ে কম বয়সী শিকার। উল্লেখ্য, ঘাতক কিশোর প্যাচাট ইমরুয়াং পারিবারিক বিচ্ছেদের কারণে দাদা-দাদির কাছে বড় হচ্ছিল এবং ঘটনার দিন প্রথমে তার দাদা-দাদিকে ও পরবর্তীতে স্কুলে গিয়ে হামলা চালিয়ে মোট নয়জনের প্রাণহানি ঘটায়, যার মধ্যে সে নিজেও অন্তর্ভুক্ত। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অত্যন্ত প্রাণবন্ত, নাচ-গান ও সৃজনশীলতায় ভরপুর নাফাত টিকা নিতে গিয়ে ওই বন্দুক হামলার শিকার হয়েছিল। টানা কয়েকদিন হাসপাতালে জীবনের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানে সে।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ পুরো থাইল্যান্ডজুড়ে গভীর শোকের আবাহন সৃষ্টি করেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রাজকীয় সমবেদনা জানিয়েছেন দেশটির রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন ও প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল। রাজপ্রাসাদ থেকে নিহতদের শেষকৃত্য ও আহতদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মন্দিরে সংরক্ষিত নাফাতের ছবিতে তার শৈশব ও কৈশোরের উজ্জ্বল স্মৃতির পাশাপাশি সর্বধর্মের সহমর্মী মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, অপরাধের কোনো ধর্ম বা জাতি নেই; কিন্তু দুঃখের দিনে শোক প্রকাশ এবং ক্ষমা চাওয়ার সংস্কৃতিই যেকোনো মানব সভ্যতার মূল ভিত্তি। নাফাতের পিতা নিজের এই অপূরণীয় ক্ষতির পরও ঘাতকের পিতাকে যে মানবিক ক্ষমা প্রদর্শন করেছেন, তা হিংসাবিদ্বেষপূর্ণ আধুনিক বিশ্বে অহিংসা ও সম্প্রীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
মতামত