হিন্দুস নিউজ

​থাইল্যান্ডে মন্দিরে শেষকৃত্যে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য: নিহত স্কুলছাত্রী নাফাতের মা-বাবার পায়ে লুটিয়ে ক্ষমা চাইলেন হামলাকারীর পিতা


| প্রিন্ট সংস্করণ

​থাইল্যান্ডে মন্দিরে শেষকৃত্যে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য: নিহত স্কুলছাত্রী নাফাতের মা-বাবার পায়ে লুটিয়ে ক্ষমা চাইলেন হামলাকারীর পিতা
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
আন্তর্জাতিক পরিসরে সহনশীলতা, অহিংসা এবং সর্বজনীন মানবাধিকারের বাণী যখন বারে বারে হিংসার তাণ্ডবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, ঠিক তখনই থাইল্যান্ডের এক পবিত্র মন্দিরে প্রত্যক্ষ করা গেল করুণ রস ও মানবিকতার এক চরম নিদর্শন। ব্যাংককের দেবসিরিন নন্থাবুরি স্কুলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বন্দুক হামলায় নিহত ১২ বছরের নিরীহ সনাতনী ধারার সংস্কৃতিতে বড় হওয়া কিশোরী নাফাত চাইমারের শেষবিদায় অনুষ্ঠানের পরিবেশ এক ভারী শোকের চাদরে ঢেকে যায়। তবে নন্থাবুরি প্রদেশের ওয়াট লাট প্লা ডুক মন্দিরে নাফাতের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে উপস্থিত শত শত মানুষকে সবচেয়ে বেশি স্তব্ধ করে দেয় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। স্বজনহারা মা-বাবার সামনে এসে সম্পূর্ণ অনুশোচনায় ভেঙে পড়েন খোদ ১৪ বছর বয়সী ঘাতক কিশোরের পিতা নিথি ইমরুয়াং।


​প্রাচ্য সংস্কৃতির গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও ক্ষমা প্রার্থনার ঐতিহ্যবাহী অঙ্গভঙ্গি 'ওয়াই' করে তিনি কান্নাভেজা চোখে নিহত নাফাতের বাবা পংথন চাইমার ও মায়ের পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসেন। নিজের ঔরসজাত সন্তানের অমার্জনীয় অপরাধের দরুন মাথা নত করে হাতজোর করে ক্ষমা চান সেই অসহায় পিতা। শোকের সাগরে নিমজ্জিত হয়েও নাফাতের বাবা পংথন যে মহানুভবতা প্রদর্শন করেছেন, তা মানবাধিকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি ক্ষোভে অন্ধ না হয়ে পরম মমতায় নিথিকে দুই হাত ধরে তুলে দাঁড় করান। মানবজাতির জন্য এ এক পরম শিক্ষা যে, হিংসার বদলে করুণাই পারে ক্ষত নিরাময় করতে।

​থাইল্যান্ডের ওই নৃশংস ঘটনায় নাফাত ছিল সবচেয়ে কম বয়সী শিকার। উল্লেখ্য, ঘাতক কিশোর প্যাচাট ইমরুয়াং পারিবারিক বিচ্ছেদের কারণে দাদা-দাদির কাছে বড় হচ্ছিল এবং ঘটনার দিন প্রথমে তার দাদা-দাদিকে ও পরবর্তীতে স্কুলে গিয়ে হামলা চালিয়ে মোট নয়জনের প্রাণহানি ঘটায়, যার মধ্যে সে নিজেও অন্তর্ভুক্ত। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অত্যন্ত প্রাণবন্ত, নাচ-গান ও সৃজনশীলতায় ভরপুর নাফাত টিকা নিতে গিয়ে ওই বন্দুক হামলার শিকার হয়েছিল। টানা কয়েকদিন হাসপাতালে জীবনের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানে সে।

​এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ পুরো থাইল্যান্ডজুড়ে গভীর শোকের আবাহন সৃষ্টি করেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রাজকীয় সমবেদনা জানিয়েছেন দেশটির রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন ও প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল। রাজপ্রাসাদ থেকে নিহতদের শেষকৃত্য ও আহতদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মন্দিরে সংরক্ষিত নাফাতের ছবিতে তার শৈশব ও কৈশোরের উজ্জ্বল স্মৃতির পাশাপাশি সর্বধর্মের সহমর্মী মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, অপরাধের কোনো ধর্ম বা জাতি নেই; কিন্তু দুঃখের দিনে শোক প্রকাশ এবং ক্ষমা চাওয়ার সংস্কৃতিই যেকোনো মানব সভ্যতার মূল ভিত্তি। নাফাতের পিতা নিজের এই অপূরণীয় ক্ষতির পরও ঘাতকের পিতাকে যে মানবিক ক্ষমা প্রদর্শন করেছেন, তা হিংসাবিদ্বেষপূর্ণ আধুনিক বিশ্বে অহিংসা ও সম্প্রীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


​থাইল্যান্ডে মন্দিরে শেষকৃত্যে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য: নিহত স্কুলছাত্রী নাফাতের মা-বাবার পায়ে লুটিয়ে ক্ষমা চাইলেন হামলাকারীর পিতা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image
আন্তর্জাতিক পরিসরে সহনশীলতা, অহিংসা এবং সর্বজনীন মানবাধিকারের বাণী যখন বারে বারে হিংসার তাণ্ডবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, ঠিক তখনই থাইল্যান্ডের এক পবিত্র মন্দিরে প্রত্যক্ষ করা গেল করুণ রস ও মানবিকতার এক চরম নিদর্শন। ব্যাংককের দেবসিরিন নন্থাবুরি স্কুলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বন্দুক হামলায় নিহত ১২ বছরের নিরীহ সনাতনী ধারার সংস্কৃতিতে বড় হওয়া কিশোরী নাফাত চাইমারের শেষবিদায় অনুষ্ঠানের পরিবেশ এক ভারী শোকের চাদরে ঢেকে যায়। তবে নন্থাবুরি প্রদেশের ওয়াট লাট প্লা ডুক মন্দিরে নাফাতের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে উপস্থিত শত শত মানুষকে সবচেয়ে বেশি স্তব্ধ করে দেয় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। স্বজনহারা মা-বাবার সামনে এসে সম্পূর্ণ অনুশোচনায় ভেঙে পড়েন খোদ ১৪ বছর বয়সী ঘাতক কিশোরের পিতা নিথি ইমরুয়াং।


​প্রাচ্য সংস্কৃতির গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও ক্ষমা প্রার্থনার ঐতিহ্যবাহী অঙ্গভঙ্গি 'ওয়াই' করে তিনি কান্নাভেজা চোখে নিহত নাফাতের বাবা পংথন চাইমার ও মায়ের পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসেন। নিজের ঔরসজাত সন্তানের অমার্জনীয় অপরাধের দরুন মাথা নত করে হাতজোর করে ক্ষমা চান সেই অসহায় পিতা। শোকের সাগরে নিমজ্জিত হয়েও নাফাতের বাবা পংথন যে মহানুভবতা প্রদর্শন করেছেন, তা মানবাধিকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি ক্ষোভে অন্ধ না হয়ে পরম মমতায় নিথিকে দুই হাত ধরে তুলে দাঁড় করান। মানবজাতির জন্য এ এক পরম শিক্ষা যে, হিংসার বদলে করুণাই পারে ক্ষত নিরাময় করতে।

​থাইল্যান্ডের ওই নৃশংস ঘটনায় নাফাত ছিল সবচেয়ে কম বয়সী শিকার। উল্লেখ্য, ঘাতক কিশোর প্যাচাট ইমরুয়াং পারিবারিক বিচ্ছেদের কারণে দাদা-দাদির কাছে বড় হচ্ছিল এবং ঘটনার দিন প্রথমে তার দাদা-দাদিকে ও পরবর্তীতে স্কুলে গিয়ে হামলা চালিয়ে মোট নয়জনের প্রাণহানি ঘটায়, যার মধ্যে সে নিজেও অন্তর্ভুক্ত। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অত্যন্ত প্রাণবন্ত, নাচ-গান ও সৃজনশীলতায় ভরপুর নাফাত টিকা নিতে গিয়ে ওই বন্দুক হামলার শিকার হয়েছিল। টানা কয়েকদিন হাসপাতালে জীবনের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানে সে।

​এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ পুরো থাইল্যান্ডজুড়ে গভীর শোকের আবাহন সৃষ্টি করেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রাজকীয় সমবেদনা জানিয়েছেন দেশটির রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন ও প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল। রাজপ্রাসাদ থেকে নিহতদের শেষকৃত্য ও আহতদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মন্দিরে সংরক্ষিত নাফাতের ছবিতে তার শৈশব ও কৈশোরের উজ্জ্বল স্মৃতির পাশাপাশি সর্বধর্মের সহমর্মী মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, অপরাধের কোনো ধর্ম বা জাতি নেই; কিন্তু দুঃখের দিনে শোক প্রকাশ এবং ক্ষমা চাওয়ার সংস্কৃতিই যেকোনো মানব সভ্যতার মূল ভিত্তি। নাফাতের পিতা নিজের এই অপূরণীয় ক্ষতির পরও ঘাতকের পিতাকে যে মানবিক ক্ষমা প্রদর্শন করেছেন, তা হিংসাবিদ্বেষপূর্ণ আধুনিক বিশ্বে অহিংসা ও সম্প্রীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
​থাইল্যান্ডে মন্দিরে শেষকৃত্যে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য: নিহত স্কুলছাত্রী নাফাতের মা-বাবার পায়ে লুটিয়ে ক্ষমা চাইলেন হামলাকারীর পিতা
0:00 0:00
1.0x