আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারতের বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন, বিজেপি নেতা ও ধর্মীয় গুরুরা। বিসিসিআই-এর এই পদক্ষেপকে তারা ১০০ কোটি সনাতনীর আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান হিসেবে দেখছেন।
বিসিসিআই-এর সিদ্ধান্তের পরপরই বিজেপি নেতা সংগীত সোম সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
“১০০ কোটি ভারতীয় সনাতনীর আবেগ ও অনুভূতির কথা বিবেচনা করে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিসিসিআই-কে ধন্যবাদ। এটি পুরো দেশের হিন্দুদের জয়।”
তিনি আরও বলেন, কেকেআর কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে শাহরুখ খান এখন বুঝতে পেরেছেন যে ভারতে বসে সনাতনী সমাজের অনুভূতির বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব নয়। “যে সনাতনীরাই শাহরুখ খানকে সুপারস্টার বানিয়েছে, সেই বাস্তবতা তিনি এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন,”— মন্তব্য করেন সংগীত সোম।
এর আগে মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার ঘটনায় কেকেআর মালিক শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ বলেও আক্রমণ করেছিলেন তিনি, যা দেশজুড়ে বিতর্কের জন্ম দেয়।
ধর্মীয় গুরুদের কড়া বার্তা
বিখ্যাত সনাতনী ধর্মীয় গুরু দেবকীনন্দন ঠাকুরও বিসিসিআই-এর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে তিনি শাহরুখ খানের নীরবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন,
“বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চলছে, সেই দেশের একজন ক্রিকেটার ভারতে এসে আইপিএল খেলবেন—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
শাহরুখ খানের উদ্দেশে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন,
“হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়ে এখনো শাহরুখ খানের কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না আসা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
বিজেপি নেতাদের সমর্থন
উত্তর প্রদেশের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র কাশ্যাপ বিসিসিআই-এর সিদ্ধান্তকে ‘সময়োপযোগী’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,
“দেশের আপামর মানুষের সেন্টিমেন্ট বুঝে বোর্ড যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”
চাপের মুখেই সিদ্ধান্ত?
উল্লেখ্য, ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে কেনার পর থেকেই কেকেআর-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে একাধিক কট্টরপন্থী সংগঠন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তারা বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আইপিএলে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিল।
ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত বিসিসিআই মুস্তাফিজকে দল থেকে রিলিজ দেওয়ার নির্দেশ দিতে বাধ্য হয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নয়, বরং সনাতনী সমাজের আত্মসম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্নে এক বড় বিজয়।
মতামত