বিয়ের জন্য পাত্রী দেখা হয়েছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে। পরিবারে তখন ছিল নতুন জীবনের স্বপ্ন, ছিল আনন্দের প্রস্তুতি। কিন্তু সেই আনন্দ আর পূর্ণ হলো না। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারালেন রাঙ্গুনিয়ার যুবক অপু দাশ। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন কাতালপীর শাহ দরগাহের সামনে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত অপু দাশ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামের বাঘার বাড়ির মৃত বাদল দাশের একমাত্র ছেলে। তিনি রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকার দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে দায়িত্ব পালন শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন অপু। এর কিছুক্ষণ পর দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে তাঁকে মোটরসাইকেলসহ সড়কের ওপর পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনায় অপুর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (মার্কেটিং) এপেক্সিয়ান মৃনাল কান্তি বড়ুয়া জানান, অপু ছিলেন হাসপাতালের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে গভীর শোক নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো—দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই অপুর বিয়ের জন্য পাত্রী দেখা হয়েছিল। পরিবার যখন ছেলেকে ঘিরে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখছিল, তখনই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
এদিকে একমাত্র ছেলে অপু দাশকে হারিয়ে তাঁর মা শোকে ভেঙে পড়েছেন। যে বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতি, আত্মীয়-স্বজনের আগমন ও আনন্দের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল, সেই বাড়িতেই এখন চলছে কান্না ও আহাজারি। প্রিয় সন্তানকে হারানোর বেদনায় পরিবার-স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক।
অপুর অকাল মৃত্যুতে উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামসহ তাঁর পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিয়ের আনন্দে যে পরিবারটি নতুন স্বপ্ন বুনছিল, মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন পরিণত হয়েছে গভীর বেদনায়।
পরমেশ্বর ভগবানের কাছে প্রার্থনা—প্রয়াত অপু দাশের আত্মার সদ্গতি ও শান্তি হোক। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি প্রদান করুন।
মতামত