সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে এবার শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে শুরু হয়েছে এক অভূতপূর্ব ও ব্যতিক্রমী আয়োজন। প্রতি বছর প্রতিমা নির্মাণে বৈচিত্র্য আনার ধারাবাহিকতায় এবার যোগ হয়েছে এক অনন্য নান্দনিক মাত্রা, যেখানে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তার সূক্ষ্ম কারুকার্যে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে দুর্গা প্রতিমা। দক্ষিণ ভারতীয় নান্দনিক নকশা ও আধুনিক ভাবনার মেলবন্ধনে প্রখ্যাত ভাস্কর প্রকাশ মণ্ডলের নিপুণ হাতে নির্মিত এই অনন্য প্রতিমা দেখতে পূজা শুরুর আগেই বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সনাতনী ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে। প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ও ১৩টি প্রতিমা সম্বলিত এই বিশাল মণ্ডপটি কেবল ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি হয়ে উঠেছে অধিকার, সংস্কৃতি ও স্থানীয় জনজীবনের মেলবন্ধনের কেন্দ্রবিন্দু।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরের পূজা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অর্ধেন্দু মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক প্রবীর মণ্ডল জানান যে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পূজার দিনগুলোতে থাকছে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন ও ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা, যা হিন্দু ঐতিহ্য ও অধিকার রক্ষার সংগ্রামকে আরও বেগবান করবে। আগামী ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠীর বোধন থেকে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পর্যন্ত উদ্যাপিত এই উৎসবে দশটি মণ্ডপের প্রতিমা একসাথে বিসর্জনের জন্য বিখ্যাত 'বুড়িয়া আড়ং মেলা'র আয়োজন করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে, যা যেকোনো মূল্যে সনাতনীদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। স্থানীয় সকল সম্প্রদায়ের যৌথ উপস্থিতিতে আশাশুনির এই আয়োজন প্রমাণ করে যে, নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ধর্মীয় উৎসব পালনে বাংলাদেশের সনাতনী সমাজ আজ আত্মবিশ্বাসী ও ঐক্যবদ্ধ।
মতামত