প্রথমদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হলেও, কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তা ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসানের দাবিতে রূপ নেয়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, চলমান অস্থিরতায় ‘কয়েক হাজার’ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সানডে টাইমস জানায়, ইরানের আটটি প্রধান চক্ষু হাসপাতাল ও ১৬টি জরুরি বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে—নিহতের সংখ্যা ১৬,৫০০ থেকে ১৮,০০০ এবং আহতের সংখ্যা ৩৩০,০০০ থেকে ৩৬০,০০০–এর মধ্যে হতে পারে। নিহতদের বেশিরভাগের বয়স ৩০ বছরের নিচে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে শিশু ও গর্ভবতী নারীরাও রয়েছেন।
ইরানি–জার্মান চক্ষু সার্জন এবং মিউনিখ এমইডি–এর মেডিকেল ডিরেক্টর অধ্যাপক আমির পারাস্তা জানান, এবারের বিক্ষোভ দমনে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী সামরিক-গ্রেডের অস্ত্র ব্যবহার করছে। বিক্ষোভকারীদের মাথা, ঘাড় ও বুকে গুলির আঘাত এবং ধারালো অস্ত্রের ক্ষত এর প্রমাণ বহন করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্তত ৭০০ থেকে ১,০০০ মানুষ চোখ হারিয়েছেন। শুধু তেহরানের নূর ক্লিনিকেই ৭,০০০ চোখে আঘাতের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। রক্তের তীব্র সংকটের কারণে বহু আহত ব্যক্তি চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় কিছু চিকিৎসক নিজেরাই রক্ত দান করে রোগীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) এখন পর্যন্ত ৩,০৯০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে, বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২,৮৮৫ জন সরাসরি বিক্ষোভকারী।
এই বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রকাশ্যে সমর্থনের কথা বলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলায় প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে দেশটির জনগণ কার্যত বিশ্বের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে।
মতামত