সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি একটি ভিডিও ও ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে, ভারতে মুসলিমদের উপাসনালয় ভাঙার পর এবার নাকি বেছে বেছে কবরস্থান ভেঙে ফেলা হচ্ছে। প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি বুলডোজার দিয়ে হালকা নীলাভ রঙের টাইলস করা একটি কবর উপড়ে ফেলা হচ্ছে। এই স্পর্শকাতর দৃশ্যটিকে ভারতের ঘটনা দাবি করে দুই দেশের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট এবং সনাতনী ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। তবে ‘হিন্দুস নিউজ’-এর তথ্যানুসন্ধান এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেক সংস্থাগুলোর নিবিড় তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই দাবির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই।
প্রকৃতপক্ষে, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিও এবং ছবিগুলো ভারতের কোনো রাজ্যের নয়, বরং এটি মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও স্থানীয় প্রক্রিয়া। বালিতে তীব্র সমাধিস্থল বা কবরস্থানের জমির সংকট দেখা দেওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের উপস্থিতিতেই পুরোনো কবর ভেঙে নতুন মরদেহের জন্য জায়গা তৈরি করা হচ্ছে। ভিডিওটির কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার মূলধারার সংবাদমাধ্যম 'Lambe Turah'-এ গত ২৮ মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম ছিল “বালিতে সমাধিস্থলের সংকট: নতুন মরদেহের জায়গা করতে ভেঙে ফেলা হচ্ছে পুরোনো কবর।” উক্ত প্রতিবেদনের ছবি এবং তথ্যের সঙ্গে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো স্পষ্ট করেছে যে, বালি দ্বীপের ওই নির্দিষ্ট কবরস্থানটিতে নতুন করে মরদেহ দাফনের আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। ফলে বহু বছর আগে দাফন করা মরদেহগুলোর অবশিষ্ট কঙ্কাল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ও ধর্মীয় রীতি মেনে তুলে নেওয়া হচ্ছে, যাতে সেই একই স্থানে নতুন মরদেহ দাফন করা যায়। এমনকি ইন্দোনেশিয়া ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘হালুয়ান মিডিয়া’র ভেরিফায়েড এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১ জুন এই ভিডিওটি পোস্ট করে জানানো হয়, স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই জমি সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত কবরগুলো ভেঙে ফেলার কাজে সহযোগিতা করছেন।
সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করে এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, ইন্দোনেশিয়ার একটি অভ্যন্তরীণ ও পরিকাঠামোগত ব্যবস্থাপনার ভিডিওকে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রবাহিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সনাতনীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতেই এই পুরোনো ভিডিওটিকে "ভারতে মুসলিমদের কবরস্থান ভাঙা" বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অতএব, ফেসবুকে প্রচারিত এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার।
মতামত